রাত গভীর হতেই তীব্র শব্দে একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে তেলআবিবসহ ইসরায়েলের একাধিক এলাক। স্থানীয় সময় রাত ২টার দিকে শুরু হয় এই রকেট হামলা, যা দীর্ঘক্ষণ চলতে থাকে। নাগরিকদের বিমান হামলা সতর্কতা সাইরেন বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদ বাংকারে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) জানিয়েছে, এবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুধু ইরান থেকেই আসেনি—ইয়েমেনে অবস্থানরত হুতি বিদ্রোহীরাও এই আক্রমণে অংশ নিয়েছে। শত্রুপক্ষের দিক থেকে ছোড়া বেশ কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।
◼️ দ্বিতীয়বারের মতো হামলায় অংশ নিচ্ছে হুতিরা
সাম্প্রতিক সময়ে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ইসরায়েলে হামলা চালাল হুতি বিদ্রোহীরা। এর আগে গত মঙ্গলবারও ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইয়েমেনভিত্তিক এই ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি। ওই হামলার পরপরই ইসরায়েল পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন হোদেইদা বন্দরে বিমানের মাধ্যমে বোমা হামলা চালায়।
◼️ গাজা যুদ্ধের প্রতি সংহতি জানিয়ে হামলা
হুতিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতিবাদেই তারা এই হামলায় অংশ নিচ্ছে। একটি বিবৃতিতে হুতিরা জানায়, “আমরা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছি। ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করতেই আমরা আবারও প্রতিরোধ শুরু করেছি।”
উল্লেখ্য, গত মার্চে হুতিরা একতরফা যুদ্ধবিরতিতে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ করে রেখেছিল। কিন্তু ইসরায়েলের কার্যক্রম চালু রাখায় তারা ফের সক্রিয় হয়ে ওঠে।
◼️ হুতিরা কে?
হুতি গোষ্ঠী হলো ইয়েমেনের শিয়া ধাঁচের এক সশস্ত্র বিদ্রোহী দল, যাদের রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে ইরান দীর্ঘদিন ধরে সমর্থন দিয়ে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারের একটি প্রধান চিত্র হিসেবেই পশ্চিমা বিশ্ব তাদের দেখছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও হুতির এমন সমন্বিত হামলা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং বড় আকারের সংঘর্ষের জন্ম দিতে পারে।
🗣️ সারাংশ:
- রোববার ভোররাতে ইরানে ছাড়াও ইয়েমেন থেকেও ইসরায়েলের দিকে বর্ষিত হয় রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র
- ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, বেশিরভাগ হামলা তারা প্রতিহত করেছে
- হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরানপন্থী হুতি মিলিশিয়া
- গাজা যুদ্ধ ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে হুতিদের এই হামলা
